শান্তিনিকেতনের শান্তিভূত -১

/, ভ্রমণ/
শান্তিনিকেতনের শান্তিভূত -১

পৃথিবীতে এমন কোন ছেলেমেয়ে নেই, যার প্রতিদিন স্কুলে যেতে ভালো লাগে। আমারও ভালো লাগত না, মাঝে মাঝেই ফাঁকি দিতে ইচ্ছা করত। তখন দাদুকে বলতাম, ধুর, স্কুলে গিয়া কি হবে – রবীন্দ্রনাথ তো স্কুলে যেতেন না। তাকে ঠেলে-ঠুলে পাঠালে, কিছুক্ষণ পরেই ক্লাস থেকে হাওয়া। তাই দু-একদিন স্কুলে না গেলেও রবীন্দ্রনাথ হওয়া যায়। আমি আজ ক্লাসে যাব না।
দাদু বলতেন, কথাটা কিছুটা সত্য। কিন্তু এর চেয়ে অনেক বেশি সত্য হলো – কুট্টিকালের স্কুল পালানো সেই রবীন্দ্রনাথ বড় হয়ে নিজেই স্কুল বানিয়েছিলেন। ছোট্ট বিদ্যালয়কে দিনে দিনে বিশ্ববিদ্যালয় করেছেন আর শেষ জীবনের বেশিরভাগ সেখানেই থাকতেন। তার সেই বিদ্যালয়টা খুব সুন্দর। নামটা আরও সুন্দর – শান্তিনিকেতন। সেখানে অশান্তির কোন কারবার নেই – সবখানে শুধু শান্তি আর শান্তি।
সেই থেকেই ভেবেছি – কবে যে সুযোগ হবে! শান্তিনিকেতনে যাব।

দিনে দিনে কবিতা-গল্প পড়তে শুরু করলাম। বাংলা গল্প-কবিতা পড়বেন, আর রবীন্দ্রনাথের প্রেমে পড়বেন না – সেটা হতেই পারে না। আমিও রবীন্দ্রনাথের প্রেমে পড়লাম। এক সময় একেবারে রবীন্দ্র মৌলবাদী টাইপ হয়ে গিয়েছিলাম। তখন সত্যিই মনে হতো – রবীন্দ্রনাথ যদি কোনদিন আবর্জনাকে সুন্দর বলে, তাহলে আবর্জনাও সুন্দর হয়ে ওঠবে। সেই সময় শান্তিনিকেতন আর জোড়াসাঁকো দেখার খুব ইচ্ছা করতো।

তারপর প্রশান্ত আর আটিলান্টিক মহাসাগরে অনেক জল বয়ে গেল, আমিও অনেক দেশ ঘুরলাম, কিন্তু শান্তিনিকেতনে যাওয়া হয় না। অবশেষে প্লান করে ছুটি নিয়ে শান্তিনিকেতন দেখার জন্য বের হলাম ২৭-২৮ জুলাই।

Leave A Comment